ঢাকা শনিবার, ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২১, ১০ আশ্বিন ১৪২৮
shikorsongbad24
Bongosoft Ltd.

প্রাকৃতিক সৌন্দর্য্যের লীলাভূমি চাঁদপুর


প্রকাশিত: মার্চ ১৩, ২০২১, ০৬:০৪ পিএম প্রাকৃতিক সৌন্দর্য্যের লীলাভূমি চাঁদপুর

ঢাকাঃ মেঘনা, ডাকাতিয়া, ধনাগোদা নদীর কোল জুড়ে ১৭০৪.০৬ বর্গ কি.মি. আয়তনের ঘন সবুজ ভূ-খন্ডের নাম চাঁদপুর। এই ভূখন্ডের বুকে পরম যতন আর আদরের মাঝে বসবাস করে ২৬,০০,২৬৩ জন মানুষ। আকাশের চাঁদ জ্যোৎস্না হয়ে ঝরে পড়ে এই সবুজ ভূখন্ডে। আচ্ছাদিত করে রাখে হাজার বছরের বিকশিত সভ্যতার এক সমৃদ্ধ জনপদকে।

মেঘনা-ডাকাতিয়া আর ধনাগোদা নদীর জলধারায় বিধৌত দেশের অন্যতম প্রাচীন জনপদ চাঁদপুর। মেঘনা কন্যা চাঁদপুরকে নিয়ে অনেক কথা হয়েছে। কেউ বলেন,‘রুপসী চাঁদপুর’ কেউ বলেন,‘ইলিশের দেশ চাঁদপুর’। চাঁদপুরের আনাচে-কানাচে ছড়িয়ে রয়েছে হাজার হাজার প্রত্নসম্পদ! চাঁদপুর শহরের বড় স্টেশন সংলগ্ন এলাকায় অবস্থিত এ মোলহেড নদীবিধৌত চাঁদপুরের প্রধানতম আকর্ষণীয় স্থান। মূলত: এটি চাঁদপুর শহর রক্ষা বাঁধের একটি অংশ।

দেশের ইলিশ উৎপাদনে এ ত্রি-মোহনার গুমোলহেড সংলগ্ন পদ্মা-মেঘনা-ডাকাতিয়ার মিলনস্থল রূপালী ইলিশের উৎকৃষ্টতম প্রজনন কেন্দ্র। সাগর থেকে উঠে আসা মা-ইলিশ এ মোলহেড সংলগ্ন ত্রি-মোহনায় ডিম ছাড়ে এবং জাটকা থেকে কিশোর ইলিশ (টেম্পু ইলিশ) পর্যন্ত বৃদ্ধি এ মোলহেড সংলগ্ন ত্রি-মোহনায় ঘটে। তাই রুত্ব অসীম। মোলহেড শুধুমাত্র রূপালী ইলিশের ডিম ত্যাগ এবং বেড়ে ওঠার স্থান হিসেবেই খ্যাত নয়,এর প্রাকৃতিক সৌন্দর্যও অতুলনীয়।

পূর্ণাঙ্গ বর্ষায় পদ্মা-মেঘনা-ডাকাতিয়ার এ ত্রি-মোহনায় জলরাশিতে বড় আকারের ঘূর্ণি সৃষ্টি হয় এবং বড় বড় ঢেউ আছড়ে পড়ে এই মোলহেডে। এ সময়ে বিপুল পরিমাণ জলরাশির গর্জন এবং ত্রি-মোহনায় পানির তলদেশে তীব্র স্রোতের ফলে মোলহেডে কম্পন অনুভব করা যায়। আবার শান্ত নদীতে স্বচ্ছ জলরাশি, চলমান অসংখ্য যাত্রীবাহী নৌকা, লঞ্চ-স্টীমার এবং ছায়া ঘেরা মোলহেড এক নৈসর্গিক প্রাকৃতিক সৌন্দর্য। এখানে সূর্যাস্তের দৃশ্য দেখার জন্য প্রতিদিন শত শত লোকের সমাগম ঘটে।

প্রাণ জুড়ানো, নয়নাভিরাম প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের লীলাভূমি চাঁদপুর বড় স্টেশন মোলহেড এলাকা। তিন নদীর কল কল ধ্বনি, ঢেউয়ের অপরূপ নৃত্য, বর্ষার আকাশে সূর্যমামা আর মেঘমালার লুকোচুরি, কিংবা শেষ বিকেলে টকটকে লাল সূর্যে ঘুমিয়ে পড়ার দৃশ্য অবলোকনে মানুষের পদচারণায় মুখর হয়ে উঠেছে।

Side banner